কালিদাস ছিলেন ধ্রুপদি সংস্কৃত ভাষার এক বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার। ইংরেজ কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মতো দেখা হয় তাকে সংস্কৃত ভাষার সাহিত্যে।.[১] তার কবিতা ও নাটকে হিন্দু পুরান ও দর্শনের প্রভাব আছে। কালিদাস প্রাচীন যুগের ভারতীয় কবি। তিনি সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিরূপে পরিচিত। যদিও তাঁর জীবনকাহিনি সম্পর্কে বিশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি প্রথম জীবনে মূর্খ ছিলেন এবং বিদূষী স্ত্রী কর্তৃক অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করতে গেলে দেবী সরস্বতীর বরপ্রাপ্ত হন।
Pages
Adsterra
a-ads
pop
Tuesday, September 14, 2021
Biography Of Kalidas Pondit In Banglaকালিদাস পন্ডিত এর জীবনী | Biography Of Kalidas Pondit In Bangla
কালিদাস ছিলেন ধ্রুপদি সংস্কৃত ভাষার এক বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার। ইংরেজ কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মতো দেখা হয় তাকে সংস্কৃত ভাষার সাহিত্যে।.[১] তার কবিতা ও নাটকে হিন্দু পুরান ও দর্শনের প্রভাব আছে। কালিদাস প্রাচীন যুগের ভারতীয় কবি। তিনি সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিরূপে পরিচিত। যদিও তাঁর জীবনকাহিনি সম্পর্কে বিশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি প্রথম জীবনে মূর্খ ছিলেন এবং বিদূষী স্ত্রী কর্তৃক অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করতে গেলে দেবী সরস্বতীর বরপ্রাপ্ত হন।
Sunday, September 12, 2021
আরজে এসসিতে কিভাবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন বা নিবন্ধন করবেন, এবং যে কাগজ গুল দরকার? RJsc
কিভাবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন বা নিবন্ধন করবেন?
প্রত্যেক ব্যবসায়ীর স্বপ্ন থাকে যে তিনি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করবেন তার প্রতিষ্ঠানটি একদিন বড় একটি কোম্পানি হবে, তিনি ডিরেক্টর হবেন, শত-সহস্র শ্রমিককে তার কোম্পানি চাকরি দেবেন, তিনি দেশ ও সমাজের জন্য বড় ভূমিকা রাখবেন। অনেকেই ভেবে থাকেই এই কোম্পানি গঠন করা বেশ কঠিন একটা কাজ এবং এটি করলে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয় কারণ অনেকেই এই কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না বা অনেক সময় ভুল জানেন। আমরা আমাদের এই লেখায় সহজ ও বোধগম্য ভাবে কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া এ টু জেড উল্লেখ করবো। তাছাড়াও এই লেখায় আপনি এই লেখায় কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য সকল প্রয়োজনীয় গাইড লাইন পাবেন। যা আপনাকে প্রয়োজনীয় টার্মস ও বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করবে। আর যে কোন সাহায্যের জন্য আমরা তো আছি-ই।
কোম্পানি গঠনের আগে যেসব জানা ভালো
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কি?
কিছু ব্যক্তি যখন ব্যক্তিগত ভাবে বা প্রাইভেটলি কোন কোম্পানি গঠন করেন তখন তাকে বলা হয় প্রাইভেট কোম্পানি। উল্লেখ্য যে চাইলেই যে কেই নিজের ইচ্ছামত এই কোম্পানির অংশীদার হতে পারে না যদি না মূল অংশীদাররা নতুনদের যুক্ত করতে অনুমোদন দেয়।
আর লিমিটেড কথাটি এসেছে শেয়ার লিমিট ও শেয়ার হোল্ডার / অংশীদার লিমিট থেকে, একটি লিমিটেড কোম্পানিতে কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে তা আগেই অথরাইজড ক্যাপিটালে মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় বা লিমিট করা হয়। সেই লিমিটের বাইরে কোন লিমিটেড কোম্পানি শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না।
আবার লিমিটেড কোম্পানিতে যারা অংশীদার থাকেন তাদের লাভ ও দায় তাদের শেয়ারের অনুপাতে তাদের উপর বর্তায় তাই এটাকে বলে লিমিটেড লায়াবেলিটি, এখানেও একটা লিমিট আছে। তাছাড়া একটি প্রাইভেট বা লিমিটেড কোম্পানিতে ২-৫০ জন পর্যন্ত শেয়ার হোল্ডার বা অংশীদার রাখা যায় যেটাও লিমিটেড।
প্রাক পরিকল্পনা
আপনার কাছে অল্প কিছু টাকা থাকলেই আপনি একটি ফার্মের সাহায্য নিয়ে একটি কোম্পানির নিবন্ধন করতে পারেন তবে সেটা করার আগে অবশ্যই একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তার কিছু প্রাক পরিকল্পনা করতে হবে এবং তার ভবিষ্যৎ লক্ষ স্থির করতে হবে। একটি কোম্পানি গঠন করার আগে নিচের বিষয়গুলো আপনার বা আপনার (কোম্পানির) অংশীদারদের কাছে পরিষ্কার হওয়া বঞ্চনীয় ।
- আপনি / আপনার কি বর্তমানে কোন ব্যবসা করছেন? করলে বর্তমানে কি ব্যবসা করছেন? ভবিষ্যতে কি ব্যবসা করতে চাচ্ছেন?
- আপনি ১০ বছর পর নিজের কোম্পানিকে কোথায় দেখতে চাচ্ছেন?
- বর্তমানে কত টাকা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন?
- ভবিষ্যতে মোট কত টাকা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন?
আপনি যদি ইতোমধ্যেই চিন্তায় পরে যান বা ভাবতে থাকে যে এতকিছু কি দরকার, তাহলে বলব চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার যদি বিষয়গুলো নিয়ে কনফিউশন লাগে সরাসরি আমাদের কাছে চলে আসুন আপনার সহযোগিতার জন্য আমারা সর্বদা প্রস্তুত। আর কেন বিষয়গুলো আগেই ভেবে রাখা ভাল সেটা এই লেখাটি সম্পূর্ণ ভাবে পড়লেই আইডিয়া পেয়ে যাবেন।
কোম্পানির কিছু টার্মস (শব্দ) ও অর্থ
কোম্পানি গঠন করতে বা কোম্পানির নিয়ে কাজ করতে আপনাকে কিছু টার্মস বুঝতে হবে, আমরা জানি যে এই টার্মসগুলো প্রায় সবাই জানেন তবুও সহজ ভাষায় টার্মস গুলো একবার জেনে নেওয়া ভাল।
- অংশীদার / শেয়ার হোল্ডার: যারা একটি কোম্পানিতে অংশীদার হবেন, অর্থাৎ টাকা দিয়ে কোম্পানির মালিক হবেন তারা হচ্ছেন অংশীদার বা শেয়ার হোল্ডার। এই অংশীদাররা তাদের অংশের অনুপাতে লাভ [পক্ষান্তরে ক্ষতি] নিয়ে থাকবেন। প্রাইভেট কোম্পানিতে এই অংশীদারদের সংখ্যা ১-৫০ জন পর্যন্ত হতে পারে।
- ডিরেক্টর : সাধারণত অংশীদারদের একটা ক্ষুদ্র অংশ, ২-৫ জন ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। এরা বার্ষিক সাধারণ সভাতে উপস্থিত থাকেন, কোম্পানির হয়ে কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
- বোর্ড অব ডিরেক্টরস : কয়েকজন ডিরেক্টর মিলে, সাধারণত ৩-৫ জন একটি বোর্ড অব ডিরেক্টরস তৈরি করে যারা কোম্পানি পরিচালনা করেন।
- ম্যানেজিং ডিরেক্টর : সাধারণ অংশীদার বা মালিকদের মধ্য থেকে একজন [সাধারণত যার শেয়ার বেশি থাকে তিনি] ম্যানেজিং ডিরেক্টর হয়ে থাকেন। সাধারণত ম্যানেজিং ডিরেক্টর একটা কোম্পানির সকল সিদ্ধান্ত নেন। একজন ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কোম্পানি যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সকল ক্ষমতা থাকে।
- চেয়ারম্যান: অংশীদারদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান হন। চেয়ারম্যান মূলত কোম্পানির মিটিংগুলোতে সভাপতিত্ব করেন ও প্রয়োজনে মিটিঙের সিদ্ধান্তে ভোট প্রদান করেন।
- পেইড আপ ক্যাপিটাল: কোন কোম্পানি যত টাকা দিয়ে শুরু হবে সেটা হচ্ছে সেই কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটাল।
- অথরাইর্জড ক্যাপিটাল: কোন কোম্পানি কত টাকা ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে চায় বা নিতে চায় সেটা হচ্ছে অথরাইজড ক্যাপিটাল।
- মেমরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন: এটি একটি দলিল, এই দলিলে একটি কোম্পানি কি কাজ করবে তা উল্লেখ থাকে।
- আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন : এটি একটি দলিল, এই দলিলে একটি কোম্পানি কিভাবে কাজ করবে তা উল্লেখ থাকে।
এখানে প্রতিটি বিষয় অতি-সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে, যদিও এখানকার প্রতিটি টপিক একটি করে নতুন আর্টিকেল দাবি করতে পারে, তবে সাধারণ পাঠকদের জন্য এই বিষয় গুলো বুঝলেই আপাতত যথেষ্ট হবে। আপনি যদি এই বিষয়গুলো নাও বোঝেন তাতেও সমস্যা নেই শুধু একটা আইডিয়া নিলেই হবে।
ভিডিও: কিভাবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নিবন্ধন করবেন
কি কি কাগজপত্র ও তথ্য লাগবে
একটি কোম্পানি গঠন করতে প্রত্যেক জন অংশীদারের নিচের কাগজপত্র ও তথ্যগুলো লাগবে।
- ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট
- ট্যাক্স আইডি নম্বর / টিন
- স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
- পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি
- পিতার নাম
- মাতার নাম
- প্রফেশন
- ফোন নং
- ই-মেইল এড্রেস (যদি থাকে)
- এছাড়াও প্রত্যেকের ব্যাংক একাউন্ট ও চেক বই থাকতে হবে (যদিও এই তথ্য প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজন নেই)
প্রত্যেক অংশীদারের এই তথ্য ছাড়াও কোম্পানির জন্য একটি ঠিকানা প্রয়োজন হবে।
খরচ
খরচকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি
সরকারি খরচ
সরকারি খরচটা নির্ভর করে যে আপনার অথরাইজড ক্যাপিটাল কত করতে চান তার উপরে। নিচের টেবিল থেকে সংক্ষেপে দেখে নিতে পারেন যে কত টাকা অথরাইজড ক্যাপিটাল হলে কত টাকা সরকারি ফি হবে।
Private / Limited company (RJSC) registration fee list 2021
Based on authorised capital
কনসালটেন্সি, ডকুমেন্টেশন ও প্রসেসিং ফি
সরকারী খরচ ছাড়াও পুরো বিষয়টাতে আপনাকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে, আপনার ডকুমেন্টস তৈরি করতে ও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আপনার একজন কনসাল্টেন্ট অথবা একজন আইনজীবীর প্রয়োজন হবে। তাছাড়াও আরও অন্যান্য খরচ হতে পারে যা একা একা নতুন করো পক্ষে করতে গেলে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির স্বীকার হওয়া সম্ভাবনা থাকে।
পেইড-আপ ক্যাপিটাল, কোম্পানির ধরন, শেয়ার হোল্ডারদের সংখ্যা, কোম্পানি নিবন্ধনের আগে ও পরের কাজের হিসাব করে। সাধারণত বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার থেকে শুরু কলে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। এটা কোন ফার্মের অভিজ্ঞতা, কারা কাজ করছেন ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। তবে এই কাজ কোন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করানোই ভাল। যাতে করে ভবিষ্যতে আপনি তাদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন।
ল হেল্প বিডি ও বল এন্ড এসোসিয়েটস সুনামের সাথে বহুবছর ধরে কোম্পানির নিবন্ধন করে আসছে। আপনি যে কোন সময় কোম্পানির যে কোন বিষয় জানতে সরাসরি আমাদের চেম্বারে চলে আসতে পারেন। আমরা আপনাকে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আপনার কাঙ্ক্ষিত মূল্যে আপনাকে সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর।
উপরের বিষয়গুলোর একটি আইডিয়া নেয়ার পর আপনি যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে আপনি একটি কোম্পানি করতে যাচ্ছেন তবে আপনাকে অভিনন্দন। আর যদি আপনি এখনো কনফিউশনে থাকেন তবে আমাদের চেম্বারে আপনার দাওয়াত রইল। আমরা আপনার সমস্যা ও চিন্তা শুনে সহজ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব। সে যাই হোক, ধরে নেই আপনি একটি প্রাইভেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। চলুন তাহলে আমরা নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি দেখে নেই।
কোম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ Registrar of Joint Stock Companies And Firms (RJSC) বা যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর যে কোন কোম্পানির নিবন্ধন দিয়ে থাকেন। কোন কোম্পানির বৈধ কাজ করার জন্য এই পরিদপ্তরের অধীনে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ।
নামের ছাড়পত্র গ্রহন
কোম্পানি নিবন্ধনের প্রথম ধাপটি হচ্ছে নামের ছাড়পত্র নেওয়া কিন্তু নামের ছাড়পত্র নেয়ার আগে আমাদের কিছু কাজ করতে হবে।
ভিডিও; কিভাবে কোম্পানির জন্য নামের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবেন
নাম খুঁজুন / সার্চ করুন।
- প্রথমেই আমাদের আরজেএসসির ওয়েবসাইটের এই লিংকটিতে গিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি খালি আছে কিনা তা সার্চ করে দেখতে হবে। কারণ একই নামে বা কাছাকাছি সাদৃশ্য নামে আরজেএসসি নিবন্ধন প্রদান করবে না।
- তাছাড়াও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে খুঁজে দেখতে হবে যে আপনি যেই নাম চাচ্ছেন সেই নামে কোন প্রচলিত ব্যান্ড বা প্রতিষ্ঠান আছে কিনা অথবা কোন ট্রেডমার্ক ইত্যাদি আছে কিনা।
- যদি দেখেন যে কাঙ্ক্ষিত নামটি খালি আছে এবং কোন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বা ব্যান্ড এই নামে নেই তবে নামের ছাড় পত্র নেয়ার জন্য আবেদন করুন।
অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
- এই লিংকে গিয়ে Create new user (General) এ ক্লিক করুন এবং সেখানে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে ফর্মটি পূরণ করুন। [আরও বিস্তারিত আমাদের নিচের ভিডিওটিতে দেখুন]
নামের ছাড় পত্রের জন্য আবেদন করুন।
- নিবন্ধন সম্পন্ন হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ইমেইল পাবেন এবং সেখানে আপনি কিভাবে আপনার ইমেইল ভেরিফাই করে লগইন করবে সেই নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।
- ইমেইল ভেরিফাই করার পর আপনি সঠিক ভাবে এই লিংকে গিয়ে Apply for name clearance এ ক্লিক করবেন ও সেখানে লগইন করবেন।
- লগইন করার পর আপনি সেখানে একটি আবেদন পত্র দেখতে পাবেন যা যথাযথ ভাবে পূরণ করবেন। যেমন আপনি কোন অফিসে আবেদন করছেন, কিসের জন্য আবেদন করছেন, কোন নামের জন্য আবেদন করছেন, সর্বশেষে কি হিসেবে আবেদন করছেন।
- আবেদন করার সময় নিচের বিষয়গুলোতে লক্ষ রাখবেন।
ধাপে ধাপে কোম্পানির নিবন্ধন করুন
নামের ছাড়পত্রের সাধারণ শর্তাবলী:
- ১. একই নাম হতে পারবে না, অর্থাৎ উচ্চারণ ও লেখার ক্ষেত্রে শুনতে ও দেখতে একই রকম মনে হয় এমন নাম হবে না।
- ২. আন্তর্জাতিক কোন কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
- ৩. দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চালু আছে এমন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিনোদন বা ক্রীড়া সংগঠনের নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
- ৪. সরকারের অন্য কোন সংস্থায় নিবন্ধিত কোন প্রতিষ্ঠানের নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
- ৫. জাতীয় পর্যায়ে বিখ্যাত বা খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তির নাম সহ কোন নামের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের অনুমতি এবং সরকারের অনুমোদন আবশ্যক হবে। |
- ৬. মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক কোন নামের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি আবশ্যক হবে।
- ৭. সরকারি কোন কর্মসূচি বা সংস্থার নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
- ৮. বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের নামের অনুরূপ বা রাজনৈতিক কোন স্লোগান বা কর্মকুঁচির নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
- ৯. অশ্লীল, গালি বা ব্যঙ্গাত্মক শব্দ বিশিষ্ট কোন নাম হবে না।
- ১০. জাতি, ধর্ম অথবা সামাজিক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন নাম হবে না।
- ১১. পূর্ব হতে প্রতিষ্ঠিত (অন্ততপক্ষে ১০ বছরের পুরাতন) সামাজিক প্রতিষ্ঠান তার মূল নামে নিবন্ধন করতে চাইলে সাংগঠনিক কমিটির রেজুলেশন নামের ছাড়পত্রের জন্য ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে আবেদন করবেন।
- ১২. সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া সংগঠনকে কোম্পানি হিসাবে নিবন্ধনের ছাড়পত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি আবশ্যক হবে।
- ১৩, নামের ছাড়পত্রের বর্ণিত শর্তাবলীর কোন একটি ভঙ্গ হলে আরজেএসসি কর্তৃপক্ষ গৃহীত নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাম পরিবর্তন না করা হলে নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে আপত্তিকৃত নামটি প্রতিস্থাপন করা হবে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি তার নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে পরিচিত হবে।
- ১৪. শুধুমাত্র নামের ছাড়পত্র নিবন্ধনের জন্য চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।
উপরের শর্তগুলো মেনে নামের আবেদন করার পর নেক্সট এ ক্লিক করলে আপনার কাছে একটা Submission Details information চলে আসবে। সেটা সংক্ষিপ্ত ভাবে দেখে আপনি Continue তে ক্লিক করবেন। তারপর আপনাকে একটা Acknowledgement পেইজ দেখাবে যেটা আপনার সেভ করে রাখতে হবে। তারপর আপনি কোন ব্যাংকে টাকা প্রদান করতে চান তা সিলেক্ট করলে আপনাকে সেই ব্যাংকের একটা রশিদ প্রদান করবে।
রিসিটি পাবার পরে আপনাকে ব্যাংকে নামের ছাড়পত্রের জন্য টাকা ২৩০ টাকা জমা দিতে হবে।
টাকা জমা দেওয়ার সাধারণত ২-৩ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনি নামের ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন। এই লিংকে গিয়ে আপনি Submission Status এ ক্লিক করে Acknowledgement পেইজের নাম্বারটি প্রদান করে আপনার নামের ছাড়পত্র হয়েছে কিনা তা চেক করতে পারবেন।
নিবন্ধনের জন্য আবেদন
নামের ছাড়পত্র পেলে আপনাকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি একটু জটিল ও অনেক কিছু বোঝার ব্যাপার আছে তাই অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিলে কাজ সহজ হবে তবে যে যাই হোক এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করা হোল।
- নামের ছাড়পত্র পবার পর এই লিংকে গিয়ে Apply for Registration এ ক্লিক করতে হবে। তারপর লগইন করে Entity type private company সিলেক্ট করতে হবে।
- এরপর আপনার Submission no এবং নামের ছাড়পত্রে সাথে পাওয়া NC Letter No. দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই আবেদন করতে প্রয়োজন হবে;
- মেমরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন : এই ডকুমেন্টে একটা কোম্পানি কি কি ব্যবসা করবে, কিভাবে করবে, কোথায় করবে তা লেখা থাকবে। কোন কোম্পানি এই ডকুমেন্টের বাইরে কোন ব্যবসা করতে পারবে না বা চুক্তি করতে পারবে না। তাই কোম্পানির বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই দলিলটি তৈরি করতে হয়।
- আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন: এই দলিলে মূলত কোম্পানিটি কিভাবে পরিচালিত হবে, যেমন, কে ডিরেক্টর হবেন, কে কোন দায়িত্ব পাবেন, কার ক্ষমতা কেমন হবে, শেয়ার কেমন হবে, ডিভিডেন্ড কেমন হবে ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। এই দলিলটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- ফর্ম IX: এটি একটি ফর্ম যেখানে কোন অংশীদারের কত শেয়ার থাকবে ও তিনি কি দায়িত্বে থাকবেন তা বলা থাকে।
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে ধাপে ধাপে ওয়েব সাইটের নির্দেশনা মতে এইসব দলিলে তথ্যগুলো আপলোড দিতে হবে। এবং দলিলগুলো সাইন করে, ছবি সংযুক্ত করে স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
নামের ছাড়পত্র পবার ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। ৩০ দিনের পর আবেদন করতে চাইলে আবার নতুন করে নামের ছাড়পত্র নিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সম্পন্ন হবার পর
রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সম্পন্ন হবার পর, এক মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি জমা দিতে হবে।
আপনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে এবং যথা সময়ে টাকা জমা দিলে সাধারণত টাকা জমা দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যেই আপনার কোম্পানি নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
রেজিস্ট্রেশন হলে যেসব ডকুমেন্ট পাবেন
আপনার কোম্পানিটি নিবন্ধিত হয়ে গেলে আপনি একে একে তিনটি দলিল পাবেন। দলিল তিনটি হচ্ছে।
- Certificate of Incorporation Certificate of Incorporation
- Certified copy of Article of Association (AOA) and Memorandum of Association (MOA)
- Form XII
নিবন্ধনের পর
একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পর আপনাকে অবশ্যই কিছু কাজ সতর্কতার সহিত করতে হবে।
নিবন্ধনের পর আপনি যেসব ডকুমেন্ট পেলেন সেখানে সব তথ্য সঠিক আছে কিনা চেক করবেন। অনেক সময় অফিস থেকে কারণে বিনা কারণে কিছু ভুল করে থাকে।
- ভুল থাকলে তা ২১ দিনের মধ্যে সংশোধনের জন্য আবেদন দেয়া যায়।
যদি ভুলের কোন বিষয় না থাকে আপনি কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র নিয়ে দ্রুততার সাথে কোম্পানির একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে ফেলবেন। তারপর অংশীদারেরা তাদের শেয়ারে উল্লেখিত টাকা বা তাদের পেইড আপ ক্যাপিটাল তাদের ব্যাংক একাউন্ট থেকে কোম্পানির ক্রস চেকের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে প্রেরণ করবেন। এই কাজটি অবশ্যই তিন মাসের মধ্যে করতে হবে। উল্লেখ্য যে, এই টাকা জমা হওয়ার পর যে কোন সময় কোম্পানির যে কোন কাজে তোলা যাবে এবং ব্যবহার করা যাবে। এই টাকা কোম্পানির ইনভেস্ট হিসাবে বিবেচিত হবে।
এরই মাধ্যমে আপনি সহজে ও সুন্দর ভাবে একটি কোম্পানি নিবন্ধনের মাধ্যমে গঠন করতে পারেন এবং দেশ ও দশকে সামনের দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আপনার এই অগ্রযাত্রায় আমাদের সঙ্গী করলে আমরা কৃতজ্ঞ হব। কোম্পানি বিষয়ক যে কোন প্রয়োজনে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
সরাসরি চলে আসতে পারেন এই ঠিকানায়; Joy & Associates, 28, Kawran Bazar, Taz Mansion (3rd Floor) Room- 401, Dhaka – 1215 আমাদের ই-মেইল করুন: miltankumarmondal95@gmail.com এ বা প্রয়োজনে ফোন করুন: 01311654887,01611304690 নম্বরে। ধন্যবাদ।
Thursday, September 9, 2021
গৌতম বুদ্ধের ভিক্ষা পাত্র ফিরিয়ে আনার দাবি, মোদীকে চিঠি লিখলেন গবেষক
আফগানভূমে এখন তালেবান সরকার। আর তারা এই দেশ দখলের পর একের পর এক ভাস্কর্য, স্থাপত্য নষ্ট করে ফেলছে। কাবুল ন্যাশনাল মিউজিয়ামে রাখা গৌতম বুদ্ধের অমূল্য ভিক্ষা পাত্রের ভবিষ্যৎও তাই চূড়ান্ত অনিশ্চয়তাযর মধ্যে রয়েছে। এই ঘটনা জানতে পেরে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আদৌ কি তালিবানদের ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচবে ওই বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্র! এই পরিস্থিতিতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্যোগ নিতে বলে চিঠি লিখলেন বৈশালীর গবেষক রঞ্জিত কুমার।
এই গবেষক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্র আফগানিস্তান থেকে এদেশে নিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন। গবেষক রঞ্জিত কুমার সহযোগী ছিলেন প্রয়াত বৈশালী এলাকার সাংসদ রঘুবংশ প্রসাদ সিংয়ের। সে কথাও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। এমনকী তিনি লিখেছেন, প্রয়াত সাংসদ মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি এই ভিক্ষা পাত্র নিয়ে আসার জন্য দরবার করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও তিনি চিঠি লিখেছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন।
জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের ঘটনা। কালচে সবুজ বেলে পাথরের তৈরি এই পাত্র গৌতম বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যরা কাঁধে করে নিয়ে ঘুরতেন নগরের পথে পথে। এমনকী সেই পাত্রে যেটুকু ভিক্ষা হিসেবে পেতেন, তা দিয়েই বিহারের বৈশালী মঠের বৌদ্ধ ভিক্ষুক–সহ গৌতম বুদ্ধ নিজেও আহার সারতেন। গৌতম বুদ্ধের সেই ভিক্ষাপাত্র এখন কাবুল ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। দেশের এই সম্পদ এখন আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে গবেষক রঞ্জিত কুমার বলেন, ‘এটা রঘুবংশবাবুর শেষ ইচ্ছা ছিল। তিনি কেন্দ্রকে যে চিঠি লিখে ছিলেন তাও প্রায় একবছর হতে চলল। ওই চিঠিতে আমার নাম লিখেছিলেন তিনি। এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। তাঁর মৃত্যুর প্রথম বছর উদযাপন হতে চলেছে ১৩ সেপ্টেম্বর। অথচ বুদ্ধের সেই ভিক্ষা পাত্র আজও কাবুলে’।
ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে যখন এসএম কৃষ্ণ বিদেশমন্ত্রী তখন তিনি প্রথম বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। গৌতম বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভিক্ষা পাত্র ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও খবর। বৈশালীর প্রাক্তন সাংসদ রঘুবংশ প্রসাদ সিংয়ের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগী হয়।
এরপর বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ফনীকান্ত মিশ্রকে কাবুল পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর ধরে দেশের সম্পদ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। মূল্যবান বৌদ্ধ ভিক্ষাপাত্র ভারতের হাতে আসার আগেই আফগানিস্তান দখল করল তালিবানরা।
এই বিষয়ে বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ ফনীকান্ত মিশ্র জানান, বুদ্ধের স্পর্শধন্য এই সামগ্রীর কথাই আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি। ওই পাত্র যে পাথরে তৈরি হয়েছে আজকের আফগানিস্তান বা তার কাছাকাছি অঞ্চলের কোথাও সেই জাতীয় পাথর পাওয়া যায় না। উত্তরপ্রদেশ, বিহার সর্বত্র এই পাথর পাওয়া যায়। ওই জাদুঘরের প্রতিটি সংগ্রহ মানব ইতিহাসের অংশ। তার যাতে ক্ষতি না হয় তাই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।
Monday, August 30, 2021
ডেঙ্গু জ্বর হলে কী করবেন এবং কি কি লক্ষন?
মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। এ বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ডেঙ্গু জ্বর বেশি হচ্ছে। শীতকালে সাধারণত এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় এই মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে হয়ে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এই জ্বর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করে। তবে জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
More Read: রাতে ভাত না রুটি, কোনটা কতটুকু খাওয়া উচিৎ?
লক্ষণ
ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচ দিনের সময় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র্যা শ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। এই অবস্থাটা যেকোনো সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। যেমন অন্য সমস্যার পাশাপাশি যদি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়। যেমন: চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে।
মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেক দিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি হতে পারে। এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসা যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। যেমন:
* শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে
* প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে
* শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি এলে
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে
* জন্ডিস দেখা দিলে
* অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে
* প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।
চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে গোলমেলে রোগ, সাধারণত লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।
* সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
* যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।
* খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে।
* জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল-জাতীয় ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ব্যথার ওষুধ কোনোক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।
* জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে।
প্রতিরোধ
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
* বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে।
* ঘরের বাথরুমে বা কোথাও জমানো পানি পাঁচ দিনের বেশি যেন না থাকে। অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
* এডিস মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য কোনো সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীরে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের দরজা-জানালায় নেট লাগাতে হবে।
* দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
* বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফ প্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে।
* মশা নিধনের স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
* ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে কোনো মশা কামড়াতে না পারে।
* ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি এ দেশে আগেও ছিল, এখনো আছে। মশা প্রজননের ও বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।
Source of: Prothom Alo
#ডেঙ্গু জ্বরহলেকিখেতেহবে, #জ্বরকতদিনথাকে, #জ্বরওপ্রতিকার, #রোগেরলক্ষণ২০২০, #ডেঙ্গুরোগেরচিকিৎসা, #ডেঙ্গুরোগেরলক্ষণ২০২১, #ডেঙ্গুরোগীরখাবার, #ডেঙ্গুজ্বরকি
Tuesday, July 13, 2021
পুরুষের যৌবন শক্তি বাড়ানোর ঘরোয়া পদ্ধতি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের যৌন ক্ষমতা যেমন কমতে থাকে তেমনই পুরুষদেরও যৌন শক্তি হ্রাস পায়। চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে অনেকেই নিজের সঙ্গিনীকে শারীরিকভাবে তৃপ্ত করতে পারার অক্ষমতায় ভোগেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরুষের লুপ্ত যৌন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের উপায় হল টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (টিআরটি) নামের হরমোন চিকিৎসা।
Sunday, July 11, 2021
ওজন কমায় ফল ও বাদাম এবং যে ভাবে ওজন কমবে তার নিয়ম, কোন কোন ফল ওজন কমাতে সাহায্য করে?
![]() |
| ফল ও বাদাম |
ওজন সমস্যায় অনেকেই বিভিন্ন রকম পদ্ধতি নিয়ে থাকেন। কেউ কেউ ব্যায়ামের দিকে নজর রাখেন আবার কেউ কেউ খাবার নিয়ন্ত্রণ করে স্লিম থাকতে চান।
খাবার নিয়ন্ত্রণের ফলে শরীর দুর্বল হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই আপনাকে খাবার লিস্টে রাখতে হবে যেসব খাবার ফ্যাট না বাড়িয়ে শরীরের শক্তি ঠিক রাখে সেগুলো। এক্ষেত্রে ফলমূল এবং বাদাস জাতীয় খাবার সর্বোত্তম।
Wednesday, June 30, 2021
চশমা সম্পর্কে সকল ধারনা চশমা প্রকার, কোথায় পাওয়া যায়, কিভাবে পড়তে হবে, চশমা কিভাবে পরিষ্কার করতে হয়, সারাদিন চশমা পরেন?
চশমা সম্পর্কে সকল ধারনা চশমা প্রকার, কোথায় পাওয়া যায়, কিভাবে পড়তে হবে, চশমা কিভাবে পরিষ্কার করতে হয়, সারাদিন চশমা পরেন?সারাদিন চশমা পরেন?
শরিফ চশমা ঘর 1 নং লেক সার্কাস, কলাবাগান ঢাকা 1205 মোবাইল নাম্বার 01713 96 14773 01626812171 এখানে সকল প্রকার পাওয়ার ও বিদেশি লেন্স এর অর্ডার নেওয়া হয়
জেনে নিন চশমা ঝকঝকে রাখার দারুণ উপায়
Sunday, June 20, 2021
মাওয়া ফেরি ঘাট কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট তাজা পদ্মার ইলিশ খেতে চাইলে
পদ্মার এপার ওপার মাওয়া (লৌহজং মুন্সীগঞ্জ) থেকে কাঠালবাড়ি (মাদারীপুর শিবচর উপজেলা) পদ্মা ব্রিজ এর দূরত্ব কত
মাওয়া ফেরি ঘাট
মাওয়া ফেরি ঘাট (Mawa Feri Ghat) পর্যটকদের জন্যে নদী ভ্রমণ এবং ইলিশ ভোজন এর জন্যে জনপ্রিয় একটি জায়গা। মাওয়া ফেরি ঘাটের পাড়ে রয়েছে বেশকিছু খাবার হোটেল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ খাওয়ার জন্য অনেকেই মাওয়া ঘাটে ছুটে আসেন। এখানকার মাছের বাজারে ইলিশ ছাড়াও অনেক বাহারি প্রজাতির তাজা মাছ পাওয়া যায়। ঢাকার কাছে অবস্থান হওয়ায় চট করে পদ্মা পাড়ের এই মাওয়া ফেরি ঘাট হতে দিনে গিয়ে দিনেই ঘুরে আসা যায়। তাই একদিনের ভ্রমণ করার জায়গা হিশেবে অনেকের কাছে মাওয়া ঘাট অনেক জনপ্রিয় একটি স্থান। রুপালী জলের ঝিকিমিকি দেখতে দেখতে পাড় ধরে দূরে হেটে যাওয়া কিংবা পদ্মা পাড়ের শান্ত সবুজ গ্রামের যান্ত্রিকতা ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশ আপনাকে আছন্ন করে রাখবে। নৌকায় ঘুরে দেখতে পারবেন পদ্মার বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য। তাছাড়া ধোঁয়া উঠা গরম ভাতের সাথে পদ্মার ইলিশের স্বাদ কি আর অন্য কিছুতে মেটানো সম্ভব! আরও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে পদ্মার বুকে ১৫০ টাকা ভাড়ায় স্পীড বোটে এপার থেকে ওপারে যেতে পারেন।
মাওয়া ঘাট যাওয়ার উপায়
ঢাকার গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী থেকে বিআরটিসি কিংবা ইলিশ পরিবহণের বাসে চড়ে ৭০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি মাওয়া ঘাটে যেতে পারবেন। এছাড়া মিরপুর ১০, ফার্মগেট, শাহবাগ থেকে স্বাধীন পরিবহণ মাওয়া ফেরি ঘাটের পথে যাত্রা করে।
কোথায় খাবেন
মাওয়া ঘাটেই রয়েছে অনেক খাবারের হোটেল।সব হোটেলেই ইলিশ ভাজা পাওয়া যায়। আপনি চাইলে নিজে দেখে শুনে ইলিশ কিনে নিয়ে ভেঁজে নিতে পারবেন। মাওয়া ঘাটে না খেয়ে চাইলে চলে যেতে পারেন পদ্মার ওপারে কাওড়াকান্দি ঘাটের কাছের হোটেলগুলোয়। খাবারের আরো স্বাদ বৃদ্ধির জন্য ভাতের সাথে ইলিশের ফেনা ওঠা গরম তেল আর শুকনা মরচ মেখে নিতে পারেন। সাইজভেদে ইলিশ ভাজার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট (কাওড়াকান্দি):
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট কাঁঠালবাড়ীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট স্থানান্তর করায় নৌপথে দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার কমে এখন দূরত্ব দাঁড়িয়েছে আট কিলোমিটার।
শুধু কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের উন্নয়ন নয়, সড়কপথেরও উন্নয়ন করা হয়েছে। যানবাহনগুলো একটি সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠবে, আরেকটি সড়ক দিয়ে নামবে। বর্তমানে এই নৌরুটে ‘ফেরি কুমিল্লা’ নামে আরও একটি ফেরি যুক্ত হওয়ায় প্রতিদিন ১৮টি ফেরি, ৮৬টি লঞ্চ ও ২ শতাধিক স্পিডবোট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পারাপার করছে। যানজটমুক্ত রাখতে একমুখী যাতায়াতের জন্য ঘাট থেকে দুটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কে গিয়ে মিশেছে। তিন কিলোমিটার করে দৈর্ঘ্যের এ সড়ক দুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। কাঁঠালবাড়ীতে ২৪ একর জায়গার ওপর দুটি যাত্রীছাউনি, তিনটি পার্কিং ইয়ার্ড, চারটি ফেরিঘাট, তিনটি লঞ্চঘাট, একটি স্পিডবোট ঘাট ও একটি পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে।
বাড়ি গিয়ে যখন বললাম লঞ্চ পারাপার গাড়িতে এসেছি, শুনে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। লঞ্চ পারাপার! এ আবার কি ! লঞ্চে গাড়ি পার করা হয়! পরে তাদের বুঝিয়ে বললাম।’ বাগেরহাট শহর রক্ষা বাঁধে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন শেখ জসিম উদ্দিন। তিনি বছরখানেক আগে প্রথম এই সুবিধা সম্বলিত বাসে করে বাড়ি এসেছিলেন। তিনি জানান, কিছু বাস সার্ভিস আছে যেগুলো যাত্রী নিয়ে নদীর ঘাটে আসে। সেখানে বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত লঞ্চে করে নদী পাড় করানো হয়। নদীর অপর পাড়ে অপেক্ষমান বাসে সেই যাত্রীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গন্তব্যে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাস যাত্রীদের সুবিধা ও সময়ের কথা বিবেচনা করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে এই সুবিধাযুক্ত সার্ভিস দিচ্ছে। ফলে ঢাকায় যাওয়া বা আসার সময় এসব বাসের যাত্রীরা অন্যরকম নদী ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করেন। পদ্মা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চর।
দুই পাড়ে সাদা কাশবন। আকাশে উড়ে চলা সাদা মেঘ। নদীতে জেলেদের মাছ ধরা আর গাং চিলের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য। নদীর চরে গড়ে ওঠা বসতি। চলছে পদ্মা সেতুর কাজ। এছাড়া পদ্মার ইলিশ ভাজা খাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব বাস ফেরিতে করে পদ্মা নদী পাড় করা হয় সে সব বাসে বাগেরহাট থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা। আর ফেরিঘাটে যানজট থাকলে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু যেসব বাসের যাত্রীদেরকে লঞ্চে পদ্মা পাড় করা হয় সেসব বাসে সময় বাঁচে। ৫ ঘণ্টায় বাগেরহাট থেকে ঢাকায় পৌঁছানো যায়। অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয় না। লঞ্চে যাত্রী পার করার বাস সার্ভিসে সবসময় ঢাকায় আসা-যাওয়া করেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার তুহিন মাহমুদ শরীফ। তিনি জানান, একটি গাড়ি ঢাকার সায়েদাবাদ বা গুলিস্তান থেকে ছেড়ে মাওয়া পর্যন্ত আসে। এরপর ওই গাড়ির সব যাত্রীকে লঞ্চে করে নদী পার করানো হয়। ওই কোম্পানির আরেকটি গাড়ী থাকে কাওড়াকান্দি ঘাটে। লঞ্চে নদী পার হয়ে সেই যাত্রীরা ওই গাড়িতে ওঠেন এবং চলে যান গন্তব্যে। একইভাবে লঞ্চে নদী পার হওয়া যাত্রীদের নিয়ে মাওয়া ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বাস। এভাবে যে সব যাত্রী লঞ্চে নদী পার হন তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় খুব ভালভাবে উপভোগ করেন পদ্মার রূপ। কেউ কেউ হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে। অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতে ভুল করেন না। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৪টা। পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দোলা পরিবহনের যাত্রী নিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে একটি লঞ্চ ছাড়ে। সাড়ে ৫টায় লঞ্চটি মাওয়া ঘাটে পৌঁছায়। এ দিন বাগেরহাট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক বাবুল সরদার। ওই লঞ্চে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভালই লাগছে। তবে লঞ্চগুলো মাঝে মাঝে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে।
অতিরিক্ত যাত্রী থাকলে ডুবে যাওয়ার ভয় থাকে এবং এ কারণে অস্বস্তি কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘লঞ্চে ভাতের ব্যবস্থা থাকলেও চা’য়ের ব্যবস্থা নেই। চা থাকলে ভালো হতো। এ সময় পাশে থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘পড়ন্ত বিকেল। লঞ্চ এগিয়ে চলছে। দুই ধারে সাদা কাশফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। আর সেই দৃশ্য মনে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিবেশে চা থাকলে কি যে ভাল লাগতো!’ লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয় তলায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে আসেন সিদ্দিক হোসেন। অনেকেই তাকে ঝালমুড়ি দিতে বলেন। ‘এই ঝালমুড়ি, এই, আমাকে দশ টাকার দাও, এদিকে দুটো নিয়ে আসো’, এভাবে অনেকে চাইতে থাকেন। প্রথমে অন্তত ১০ মিনিট সিদ্দিকের খুব চাপ থাকে। কথা বলার সুযোগ থাকে না। সিদ্দিক এ প্রতিবেদককে জানান, লঞ্চে বিক্রি ভালই হয়। এপাড়ে ওপাড়ে যে ঘাটে যে লঞ্চ ছেড়ে দিচ্ছে তাতেই তিনি উঠে পড়েন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বিক্রি করেন ঝালমুড়ি। সাহিদা আক্তার নামের এক যাত্রী বলেন, ‘লঞ্চে পার হওয়ার সময় ঝালমুড়ি না খেলে যেন এক ধরনের অপূর্ণতা থেকে যায়। লঞ্চে উঠে প্রথমেই ঝালমুড়ি কিনি।’ দূরপাল্লার বাসের যাত্রীবাহী এসব লঞ্চ দুই তলা বিশিষ্ট।
নিচ তলায় ইঞ্জিনের কাছে খাবার বিক্রি করা হয়। সেখানে কথা হয় খাবার বিক্রেতা আবুল বাহারের সঙ্গে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায়। লঞ্চে খাবার বিক্রির জন্য লঞ্চ মালিককে এককালীন অগ্রিম এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। আবুল বাহার জানান, ইলিশের ভাজা টুকরো ৬০ টাকা, ভাত ১০ টাকা, ডাল ১০ টাকায় বিক্রি করেন। সাথে শুকনো মরিচ ভাজা ফ্রি। ইলিশের দাম আকারের উপর কমবেশি হয়। ঝালমুড়ি, ইলিশ-ভাত আর পদ্মার রূপ দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। লঞ্চ চলে ভিড়ে ঘাটে। প্রকৃতি ছেড়ে আবার গাড়িতে। তারপর বাড়িতে অথবা কর্মস্থলে। নগরজীবনে ক্লান্তির শেষ নেই। করপোরেট লাইফস্টাইলে চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠেছে দেহ ও মন। শহর ছেড়ে একটু মুক্ত বাতাসে যেতে চাইছেন! সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার কাছাকাছি কোথাও গেলে ভালো হয়। তাদের জন্য ‘পদ্মা পাড় মাওয়া’ হতে পারে উত্তম স্থান। এখানে তাজা সুস্বাধু ইলিশ যাবে পাওয়া। সেই সঙ্গে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অগ্রগতি নিজ চোখে দেখার সুযোগ তো রয়েছেই। নদী ও জলে নিজেকে সিক্ত করতে আমাদেরও পছন্দের তালিকায় এবার মাওয়া ঘাট। আমরা তিনজন শুক্রবার খুব সকালে গুলিস্তান থেকে বাসে করে রওনা হলাম মাওয়ার উদ্দেশে। গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী যেকোনো স্থান থেকে আপনি আসতে পারবেন। সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে অসংখ্য।
একটু পরপরই এগুলো ছেড়ে আসছে মাওয়ার উদ্দেশে। ভাড়াও কম। মাত্র ৭০ টাকা। কম খরচে পুরো দিনটি আপনার আনন্দে কাটবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। আর আপনি যদি হন ভ্রমণ ও ভোজনরসিক তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। মাওয়া ফেরিঘাটে পৌঁছতে সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। নিশ্চিন্তে বসে পড়ুন মাওয়াগামী যে কোনো একটা বাসে। ইচ্ছে করলে সকাল কিংবা দুপুরেও রওনা হয়ে বিকেলটা মাওয়ার পদ্মা পাড়ে কাটিয়ে সন্ধ্যার পরপরই ফিরে আসা যায় ঢাকায়। ঢাকা শহরের কোলাহল ছেড়ে কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার দুপাশে সবুজের সমারোহ। বর্ষায় এই ধানক্ষেত হয়ে যায় স্বচ্ছ জলের বিল। তবে জমিখেকো কিছু কোম্পানির আবাসন প্রকল্পের চাপে এই দৃশ্য এখন কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো টিকে আছে কিছু গ্রামবাংলার চিরায়ত প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। কিছুটা সামনে আসলেই দেখতে পাবে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার।
বাসের জানালার পাশে বসে এসব দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন মাওয়া ফেরিঘাট। বাস থেকে নামতেই রাস্তার পাশে পাবেন অসংখ্য ছোট ছোট রেস্তরাঁ। এগুলো ‘ভাতের হোটেল’ নামেই বেশি পরিচিত। ওপরে টিনের চালা আর তিন দিকে টিনের বেড়া। এসব রেস্তোরাঁ দেখতে যেমনই হোক না কেন, এখানকার গরম ভাত আর গরম গরম ভাজা পদ্মার টাটকা ইলিশের স্বাদই আলাদা। মাওয়া ফেরিঘাটের উত্তর দিকে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় অনেক দূর। নদীর পার দিয়ে হাঁটার সময় এক পাশে থাকবে রুপালি পদ্মা আর অন্য পাশে থাকবে সবুজে ঘেরা গ্রাম। ইচ্ছে করলেই ঢুকে পড়া যায় গ্রামের ভেতরে। ছায়া সুনিবিড় গাছগাছালিতে ঢাকা চমৎকার একটি গ্রাম দেখে নেওয়া যাবে ঘণ্টাখানেক পায়ে হেঁটেই। শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিকতামুক্ত এই গ্রাম অবশ্যই ভালো লাগার অনুভূতি দেবে। আমরা শুধু ঘুরতেই আসি না। আমাদের উদ্দেশ্য ফটোগ্রাফিও। তাই প্রথমে নেমে আশপাশের পরিবেশ দেখে নিলাম। আমরা ছবি তুলতে তুলতে অনেক দূরে চলে গেলাম। ছবি তোলার জন্য এখানে ইলিশ, নদী, জেলে, লঞ্চ-ফেরি, স্পিডবোট, মাঝি ও গ্রামকে সাবজেক্ট হিসেবে পাবেন।
ছবি না তুললেও সমস্যা নেই। এসব দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে আজকাল সবাই ফটোগ্রাফার। সেলফির যুগে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল সবার হাতে হাতে। তাই আপনি দারুণ দারুণ ছবি তুলে ফেসবুকের পাতার আপলোড দিতেই পারবেন। বন্ধুদের বাহবা পাবেন। ভ্রমণে এসে কোথাও ঝিম মেরে বসে থাকলে লাভ নেই। যেখানেই যাবেন, সেই স্থানটিকে ভালোমতো জেনে নিন। তাতে আনন্দের পাশাপাশি জ্ঞানও সমৃদ্ধ হবে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত নদীতে থাকবে সূর্যেও রুপালি ঝিলিক। মৃদু বাতাসে নদীর জলে ছোট ছোট রুপালি ঢেউ ঝলকে দেয় চোখ। নদীর ঘাটে অসংখ্য স্পিডবোট ভিড় করে। ইচ্ছে করলেই ১৫০ টাকার বিনিময়ে ১৫-২০ মিনিটে স্পিডবোটে চড়ে পার হওয়া যায় প্রমত্ত পদ্মা। ফেরিঘাটে সারাক্ষণই ফেরির আনাগোনা। আর তাতে করে নদী এপার-ওপার হওয়া যাবে। মন চাইলে ফেরিতেও চড়ে বসতে পারেন। ২৫ টাকার বিনিময়ে পদ্মা পাড়ি দিতে পারবেন। তবে সময় খরচ হবে একটু বেশি। প্রায় দেড় ঘণ্টা। নদীতীরের গ্রামের মানুষ দুপুরে গোসল সারে নদীর বুকে। তাদের দেখলে নিজেরও ইচ্ছে হতেই পারে নদীতে ঝাঁপিয়ে পরার! সঙ্গে গোসলের ব্যবস্থাপত্র রাখলে এ কাজটিও মন্দ হবে না। রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেবে পদ্মার গোসল।
পদ্মার পারে সবচেয়ে কমন দৃশ্য হলো জেলে নৌকো। সারি সারি নৌকা বাঁধা আছে পদ্মাপারে। কেউ কেউ জাল বুনছে। রাতের বেলা এই নৌকাই ছেড়ে যাবে রুপালি ইলিশ ধরতে। নদীতে দেখা যাবে ছোট্ট ছোট্ট নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। দেখতে পাবেন, আপনার সামনে দিয়েই নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে সদ্য ধরে আনা পদ্মার হরেক রকম টাটকা মাছ আর সেই সঙ্গে রুপালি ইলিশ! ইচ্ছে করলে একটু দামাদামি করে কিনেও নিতে পারেন। আমরাও তাজা ইলিশ ও জেলেদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। কিনেও নিলাম একটা বড় সাইজের ইলিশ। যা আমরা কোন একটা হোটেলে রান্না করে খাব। তবে একটু সাবধান হতে হবে। এখানে হোটেলগুলোতে যে মাছ রান্না করা বা কেটে কেটে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, তা ভুলেও কিনবেন না। এগুলোতে আসল ইলিশের স্বাদ পাবেন না সেভাবে। ইলিশ যদি না চিনতে পারেন, তবে সব অভিযানই বৃথা হয়ে যাবে। যাদের ইলিশ কেনার অভিজ্ঞতা নেই, তাদের অনেকেই সমস্যায় পড়ে ইলিশের দরদাম নিয়ে। অথবা কোন ইলিশটা স্বাদের জন্য ভালো হবে, তা নিয়েও চিন্তায় পড়ে অনেকে। কেউ ডিম ছাড়া ইলিশ কিনতে চান আবার কেউ চায় ডিমওয়ালা ইলিশ খেতে। এই ছোট্ট সংশয়ের ছোট্ট সমাধান অনেকেরই অজানা। ডিমওয়ালা ইলিশের স্বাদ কিছুটা কমে যায়। ইলিশের পেটে ডিম হওয়ার কারণে পেটের তেল কিছুটা কমে যায়, ফলে ইলিশের প্রকৃত স্বাদে কিছুটা ভাটা পড়ে। আবার অনেকেই বলে, ডিম ছাড়া ইলিশ কিনলে ডিমের স্বাদ পাব কী করে! সে ক্ষেত্রে মাওয়া ঘাটে ডিম ছাড়া ইলিশ কিনে অতিরিক্ত ডিমও কিনে নিতে পারেন অন্য ইলিশ থেকে। সুতরাং আপনি ইলিশের প্রকৃত স্বাদও পেলেন, সঙ্গে ডিমের মজাটাও পেলেন।
ছোট ৪০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ইলিশের দাম পড়বে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা আর ইলিশের ওজন যদি ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম হয় তবে দাম পড়বে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর যদি কোনোভাবে ইলিশের ওজন এক কেজি পার হয়, তবে আর সেই ইলিশ পায় কে। ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দাম হাঁকিয়ে বসে থাকে হোটেলগুলো। তবে দাম শুনে ভড়কে যাবেন না। চাওয়া দামের অর্ধেকেও ইলিশ বিক্রির ইতিহাস এখানে অনেক পুরোনো। যুগ যুগ ধরেই মাওয়া ঘাটের ইলিশের চাহিদা সবখানে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ খেতে আসে ভোজনরসিকেরা। পদ্মা ঘাটে বসে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে পদ্মার ভাজা ইলিশ দিয়ে ভূরিভোজ করেন। শুধু যে এখানে ইলিশ মাছ আছে তা কিন্তু নয়। এখানে পাবেন বড় বড় চর্বিযুক্ত পাঙ্গাশ মাছ। পাঙ্গাশ মাছের পেটির স্বাদও নিতে পারেন অনায়াসে। এ ছাড়া শিং, চিংড়িসহ হরেক রকম নদীর মাছের ভর্তা পাবেন। যাদের মাছের প্রতি কিঞ্চিৎ বিরক্তি আছে, বিশেষ করে কাঁটা আর স্বাদের কারণে তাদের জন্য আছে মাংসের আয়োজন। মুরগি, খাসিসহ আছে অনেক পদের মাংস রান্না। চাইলে স্পিডবোটে করে ওপারে যেতে পারেন। ওখানেও ভালো কিছু খাবার হোটেল হয়েছে। ফেরি, লঞ্চ বা স্পিডবোটে ফিরতে পারবেন। ফেরির তিনতলা থেকে রাতের পদ্মা অপার্থিব লাগবে।
যদি জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে খেতে চান, তবে অন্তত এক দিনের জন্য সকালের কাঁচা ঘুম ত্যাগ করে মাওয়া পৌঁছাতে হবে সকাল নয়টার মধ্যে। আর শুধু ইলিশ খেয়ে চলে আসা নেহাত বোকামি হবে। যদি নদীর পাড়ে বসে পদ্মার বিশাল জলের একটু উন্মাদনা না দেখেন তা হলে কিন্তু মিস করলেন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন পাটে বসতে চলে, তখন ম্লান সূর্যের সোনালি ছায়া পড়ে নদীর বুকে। চমৎকার সেই মুহূর্ত। নদীর জলে যেন তরল সোনা মিশিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। নদীর ওপর দিয়ে একলা নিঃসঙ্গ কোনা বক বা একঝাঁক গাংচিল উড়ে যায় ওদের আশ্রয়ের দিকে। নৌকায় করে চাইলে পদ্মা রিসোর্ট দেখে আসতে পারেন। রিসোর্ট ও দেখা হবে নৌকা ভ্রমণও হয়ে যাবে। ইচ্ছা করলে সারা দিন অথবা রাত দিন থাকার ব্যবস্থা আছে রিসোর্টে। না থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। শুধু এক্সট্রা ৫০ টাকা দিলেই ঘুরে দেখা যাবে সম্পূর্ণ রিসোর্ট। এরই মাঝে ঘুরে দেখে নিতে পারেন পদ্মা ব্রিজের অগ্রগতি। কেউ কেউ বলে, পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল হবে ‘সিঙ্গাপুর’। তাই পায়রাবন্দর ও পদ্মা সেতু ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে ‘সিঙ্গাপুরের’ হাতছানি দেখে আসতে পারেন। ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। জেনে খুশি হবেন যে, দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে আশার আলো জাগাচ্ছে মেগা এই প্রকল্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। সলিড ইস্পাতে তৈরি কিউব জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে একেকটি পূর্ণাঙ্গ স্প্যান। স্প্যানগুলোতে প্রথমে রঙের ছোপ লাগানো হচ্ছে। এরপর সিজনড করার জন্য বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। শুকানোর পর তা বসানো হয় সেতুর কাঠামো হিসেবে। যা দৈর্ঘ্যে ১৫০ মিটার। আর উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। প্রস্থে আরও বেশি। নদীর বুকে পোঁতা পিলারগুলোর ওপর এমন ৪১টি স্প্যানকে ঘিরেই দেখা দেবে মূল সেতুটি। এসব স্প্যানের ‘বাক্সের’ ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন আর ওপরে বসানো কংক্রিটের সড়কে চলবে গাড়ি।তাই আজই ঘুরে আসুন পদ্মার পাড়
Saturday, June 19, 2021
শেখ রাসেল শিশু পার্ক (Sheikh Rasel Shishu Park) গোপালগঞ্জ
শেখ রাসেল শিশু পার্ক
শেখ রাসেল শিশু পার্ক (Sheikh Rasel Shishu Park) গোপালগঞ্জ জেলায় টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত একটি পরিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। মধুমতী নদীর তীরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে গড়ে উঠা এই পার্কটি সব বয়সী মানুষকে সমানভাবে আকৃষ্ট করে। তাই প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারনায় শেখ রাসেল শিশু পার্ক মুখর হয়ে উঠে।
প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত শেখ রাসেল শিশু পার্কে ১৪টিরও বেশি বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে। এদের মধ্যে মেরীগো রাউন্ড, ওয়ান্ডার হুইল, মাল্টি স্লাইড, প্যাডেল বোর্ট, স্প্রীং কার, দোলনা ও ফ্লাইবার অন্যতম। শেখ রাসেল শিশু পার্ক প্রতিদিন সকাল ৯ টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। আর পার্কে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ১০ (দশ) টাকা।
Sunday, May 30, 2021
যে কারনে আপনার নিয়মিত মধু খাওয়া উচিত
মধু তার অসাধারণ ঔষধি গুনের কারনে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা আমাদের শুধুমাত্র দেহের বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে।সর্বগুন সম্পন্ন এই মধুর গুনের কথা বলে শেষ করা যাবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসা, সৌন্দর্য চর্চা- কোথায় নেই মধুর ব্যবহার? আসুন দেখে নেয়া যাক মাত্র এক চামচ মধু কি কি অসাধারণ উপকারে লাগতে পারে আপনার।মধু হিউম্যাকটেন্ট যৌগে সমৃদ্ধ। এই যৌগটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার কাজ করে এবং ত্বকের উপরিভাগের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে।হিউম্যাকটেন্ট যৌগটি ত্বককে নমনীয় করতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে দীর্ঘদিন বার্ধক্যের ছাপ মুক্ত। প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু রঙ চা কিংবা দুধের সাথে খেতে পারেন। সেই সাথে আপনার রোজকার ফেস প্যাকেও ব্যবহার করতে পারেন মাত্র এক চামচ মধু। মধু ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ দূর করে ও মুখের ত্বকে ভাঁজ পড়া রোধ করে।
মধু শরীরের ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। মধুতে মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। কোথাও পুরে, কেটে গেলে ক্ষত স্থানে মধুর একটি পাতলা প্রলেপ দিয়ে দিন। ব্যথা কমবে ও দ্রুত নিরাময় হবে। মধুতে আছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা ক্ষত পরিষ্কার হতে সাহায্য করে ও ব্যথা, ঘ্রাণ, পূঁজ ইত্যাদি হ্রাস করে দ্রুত ক্ষত নিরাময় করে।মধুতে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান যা ছত্রাক ও অন্যান্য কারনে ক্ষতিগ্রস্থ ত্বককে ঠিক করতে সাহায্য করে ও নতুন ত্বক গঠনে ভূমিকা রাখে। চর্মরোগ হলে নিয়মিত আক্রান্ত স্থানে মধু লাগান। এক চামচ মধুর সাথে অল্প পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন।মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরের চামড়াকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। অনেকটা প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনের কাজ করে মধু। রোদে পোড়া ত্বককে স্বাভাবিক করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক চামচ মধুর সাথে পানি মিশিয়ে প্রতিদিন মুখে ফেস প্যাকের মতন লাগান। রোদে পোড়া জনিত কালো দাগ দূর হয়ে চেহারা হবে ঝলমলে।
মধুতে বিদ্যমান গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং শর্করা শরীরে শক্তি সবরাহের কাজ করে। প্রতিদিন সকালে ১ চামচ মধু সারাদিনের জন্য দেহের পেশীর ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে ও আপনাকে রাখে এনার্জিতে ভরপুর।প্রতিদিন ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে মধুতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম রক্তে প্রবেশ করে। এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এভাবে মধু রক্তস্বল্পতা রোগকে প্রতিরোধ করে।মধু ঠোঁটের ওপরের শুষ্ক ত্বক ও কালচে ভাব দূর করে ঠোঁটকে নরম ও গোলাপি করে তুলতে সহায়তা করে। রাতে ঘুমের পূর্বে নিয়মিত ঠোঁটে মধু লাগান। ঠোঁট হয়ে উঠবে নজর কাড়া সুন্দর।মধুর ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, সি কপার , আয়োডিন ও জিংক দেহে এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে মধু কোলেস্টেরল সংক্রান্ত রোগ থকে দেহকে মুক্ত রাখে। দিনে অন্তত এক চামচ মধু খেয়ে নিন,যেভাবে আপনার ভালো লাগে।
সাইনাসের কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসের যে কোন সমস্যা থেকে মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ দেহকে মুক্ত রাখে। চা কিংবা উষ্ণ পানির সাথে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।প্রতিদিন মধু খাওয়া হলে দেহের ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি হয়। ফলে আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সহজে অসুখ বিসুখ ও জীবাণুর সংক্রমণ হয় না।মধু ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে আমাদের হজম শক্তি বাড়ে ও ফলে খাবারের ক্যালোরি দ্রুত ক্ষয় হয়। এতে ওজন কমে যায়। চিনির বদলে মধুর ব্যবহার মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে।যাদের খুসখুসে কাশির সমস্যা আছে, তারা প্রতিদিন এক চামচ আদার রসের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। দ্রুত আরোগ্য হবে। তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ
Friday, May 28, 2021
হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন অভিনয়জগতের এক উজ্জ্বল তারা। শারারাত ইসলাম হুমায়ুন ফরীদির একমাত্র মেয়ে।
দেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রতিভাবান ও প্রশংসিত অভিনেতাদের একজন ছিলেন হুমায়ুন ফরীদি ভাই। বাঙালির মধ্যবিত্ত সামাজিক জীবনধারাকে পর্দায় আনন্দিত করে তুলতেন তিনি। তার নাটক সিনেমা মানেই পর্দায় পুরো বাঙালির চোখ আটকে যাওয়া। হতাশ করতেন না, তিনি এতো প্রানবন্ত অভিনয় করতেন; যেন চারপাশের মানুষগুলোই জীবন্ত হয়ে যেতো তার অভিনয় দেখে।
নাটকের পর ফরীদি ভাই নাম লিখিয়েছিলেন চলচ্চিত্রে। তার উপস্থিতিতে একটু একটু করে বাংলা সিনেমায় ভিলেনের সংজ্ঞাটাও যেন পরিবর্তন হতে থাকে। প্রায় ২৫০ টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন ফরীদি ভাই। টানা তিনদশক ফরীদি ভাই তার ক্যারিশম্যাটিক ম্যাজিকাল অভিনয়ে বুঁদ করে রেখেছিলেন পুরো বাঙালি জাতিকে।
আজ হুমায়ুন ফরীদি ভাইয়ের জন্মদিন। ক্ষণজন্মা এই অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা..
কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী। নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ- সবখানেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। ২০১২ সালের আজকের এই দিনে ফাগুনের রঙে বিষাদ ছড়িয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই অভিনেতা। মারা যাওয়ার এতোদিন পরেও ভক্তদের মনে এখনো জীবিত আছেন তিনি। তার কথা এখনো নাড়া দেয় ভক্তদের মন।
শুধু অভিনয় দিয়েই মানুষকে বিমোহিত করেছিলেন ডাকসাইটে এই অভিনেতা। তাকে বলা হয় অভিনেতাদের অভিনেতা, একজন আদর্শ শিল্পী। তার অভিব্যক্তি, অট্টহাসি, ব্যক্তিত্বের ভক্ত কে না ছিলেন! অনেকের কাছে তার ব্যক্তিজীবনের গল্পও বেশ অনুপ্রেরণার।
গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিল ‘ফরীদির জন্য একুশে পদক’ নামের ফেসবুকভিত্তিক একটি অনলাইন সংগঠন। একই দাবিতে ২৬ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও (জাবি) কর্মসূচি পালন করে এর সদস্যরা। অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে ফরীদির শিক্ষাজীবন কেটেছিল জাবিতেই।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে যে ক’জন অভিনয়শিল্পী মঞ্চ ও টিভি নাটককে জনপ্রিয় করেছিলেন, হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন তাদের শীর্ষস্থানীয়। জীবদ্দশায় তিন দশকেরও বেশি সময় চলচ্চিত্রেও সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে রং ছড়িয়ে গেছেন নন্দিত ও বরেণ্য এই অভিনেতা। এর সুবাদে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্তের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নেন তিনি। নায়ক কিংবা খলনায়ক সব চরিত্রেই সমান পারদর্শিতা দেখানো এই গুণী শিল্পী কাটিয়েছেন অভিনয়ের বর্ণাঢ্য জীবন। তিনি এখনও আছেন সবার হৃদয়ে। ভক্তদের ভালোবাসায় হুমায়ুন ফরীদি একজন অমর অভিনেতা।
১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। তার বাবার নাম এটিএম নুরুল ইসলাম, মায়ের নাম বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে ফরীদি ছিলেন দ্বিতীয়। ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হন স্নাতক করতে। কিন্তু পরের বছরই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় খাতা-কলম রেখে কাঁধে তুলে নেন রাইফেল। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে দামাল ছেলের মতো লড়াই করেছেন তিনি।
স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে স্নাতক জীবন শুরু করেন হুমায়ুন ফরীদি। এখানেই তার অভিনয় প্রতিভার বিকাশ হয়েছিল। অর্থনীতির খটমটে তত্ত্ব বাদ দিয়ে সেলিম আল দীনের কাছে নাট্যতত্ত্বে দীক্ষা নেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই সদস্যপদ পান ঢাকা থিয়েটারের। এই নাট্যদল থেকেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার অভিনয়ের রঙগুলো। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নাট্য সম্পাদক।
নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ- সবখানেই ছিল হুমায়ুন ফরীদির অবাধ বিচরণ। ঢাকা থিয়েটারের ‘শকুন্তলা’, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘কীর্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’-এর মতো মঞ্চনাটকে অভিনয় করে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। আদায় করে নেন দর্শকের ভালোবাসা।
মঞ্চের গণ্ডি পেরিয়ে টিভি নাটক আর চলচ্চিত্রেও স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে নেন হুমায়ুন ফরীদি। ১৯৮০ সালে ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এর মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় হুমায়ুন ফরীদির। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘নীল নকশার সন্ধ্যায়’ ও ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ নাটকে অভিনয় করে তিনি তাক লাগিয়ে দেন। তার অভিনীত ধারবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’ আজও দর্শকের স্মৃতির পাতায় ভাস্বর। এতে কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। তার অন্য নাটকগুলোর মধ্যে আছে ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’, ‘একটি লাল শাড়ি’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘প্রিয়জন নিবাস’। সর্বশেষ তিনি ‘তখন হেমন্ত’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন এবং ‘পূর্ণ চাঁদের অপূর্ণতায়’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেন।
ফরীদির নাট্যাভিনয় থেকে চলচ্চিত্রে আসা ছিল অনেক নাটকীয়। দেশীয় চলচ্চিত্রের তখনকার বেহাল অবস্থা দেখে রূপালি পর্দার জন্য কাজ করবেন কিনা এ বিষয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সুবর্ণা মুস্তাফার অকুণ্ঠ সমর্থনে ও নিজের দৃঢ়তায় এক নতুন আঙ্গিক নিয়ে বড় পর্দায় আসেন ফরীদি। তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ তার অভিনীত প্রথম ছবি।
নব্বই দশকে বাণিজ্যিক ছবির পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘সন্ত্রাস’, ‘দিনমজুর’, ‘বীরপুরুষ’ ও ‘লড়াকু’ ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপরেই দেশীয় চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্র পায় এক অন্যমাত্রা। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছিল যে, একসময় মানুষ নায়কের পরিবর্তে তাকে দেখার জন্যই প্রেক্ষাগৃহে যেতো।পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘অপহরণ’, ‘দুঃসাহস’সহ ২৮টি ছবির মধ্যে ২৫টিতেই রাখেন ফরীদিকে। তার অভিনীত ছবির তালিকায় আরও আছে ‘দহন’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘দূরত্ব’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘অধিকার চাই’, ‘ত্যাগ’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মাতৃত্ব’ ও ‘আহা!’র মতো ছবিতে অভিনয় করে এ দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেন তিনি।
২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। বেঁচে থাকতে একুশে পদক পাননি এই শক্তিমান অভিনেতা। তবে মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন তিনি।
হুমায়ুন ফরীদির ব্যক্তিজীবন খুব বেশি সুখের ছিল না। আশির দশকের শুরুর দিকে বিয়ে করেছিলেন মিনুকে। প্রথম সংসারে দেবযানী নামের এক মেয়েকে রেখে গেছেন তিনি। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন ফরীদি। ২০০৮ সালে সেই সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ হয়। পরের সময়গুলো অনেকটা নিঃসঙ্গ কেটেছে এই শক্তিমান অভিনেতার।
হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন অভিনয়জগতের এক উজ্জ্বল তারা।
শারারাত ইসলাম হুমায়ুন ফরীদির একমাত্র মেয়ে।
বাবা সম্পর্কে কখনো তাঁকে কোনো কথা বলতে শোনেনি কেউ।
হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন বাংলাদেশের অভিনয়জগতের এক উজ্জ্বল তারা। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি চলে গেছেন। মাত্র ৬০ বছর বয়স হয়েছিল তাঁর। মঞ্চ, টেলিভিশন আর চলচ্চিত্রে ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। এই শিল্পী সম্পর্কে তাঁর অগ্রজ শিল্পী আল মনসুর বলেছিলেন, ‘এ মাটিতে জন্ম নেওয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চির উজ্জ্বল অভিনেতা হলো হুমায়ুন ফরীদি।’
এটি কোনো অতিমূল্যায়ন নয়। হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা স্বীকার করবেন, এত বড় মাপের শিল্পী সত্যিই এ মাটিতে জন্ম নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে বিরল।
শারারাত ইসলাম হুমায়ুন ফরীদির একমাত্র মেয়ে। দেবযানী নামেই তাঁকে চেনে সবাই। বাবা সম্পর্কে কখনো তাঁকে কোনো কথা বলতে শোনেনি কেউ। একদিন তাঁকে বলেছিলাম, তাঁর বাবার কথা শুনব। ঠিক হয়েছিল, কোনো একদিন দীর্ঘ সময় নিয়ে বসব আমরা, সঙ্গে থাকবে চায়ের কাপ আর আলোচনা হবে একটি বিষয়েই-হুমায়ুন ফরীদি।
শারারাত ইসলাম
গতকাল (সোমবার) বিকেলে সে কথাই মনে করিয়ে দেওয়া হয় দেবযানীকে। বাবা সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চান না তিনি। তবে কথা প্রসঙ্গেই উঠে আসে তাঁর কিছু পরিকল্পনার কথা, ‘বাবাকে নিয়ে একটি স্মৃতিকথার সংকলনের কথা ভাবছি। এই মাপের একজন শিল্পীকে তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম এবং তারও পরবর্তী প্রজন্ম যেন জানতে পারে, সে জন্যই এ ভাবনা। যাঁরা বাবাকে চেনেন, তাঁরাই লিখবেন। অভিনয় জীবনের পাশাপাশি তাতে উঠে আসবে বাবার শৈশব-কৈশোর, জীবনযাপনের নানা প্রসঙ্গের কথা। আমার এই ভাবনাকে মূর্ত করে তোলার জন্য এ বছর থেকেই কাজ শুরু করব।’
এ বছর মরণোত্তর একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন হুমায়ুন ফরীদি। দেবযানী সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানালেন। বললেন, ‘একজন সত্যিকারের শিল্পীকে পদক দেওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ ফোন ছাড়ার আগে দেবযানী বললেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও রয়েছে আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা। হুমায়ুন ফরীদি তাঁর মতো হয়ে উঠতে পেরেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোছায়ায় বেড়ে উঠেছিলেন বলে।’
হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে আরও অনেক কিছুই হতে পারত, হয়নি। তবে তাঁর মেয়ের উদ্যোগে একটি ভালো কাজ হতে যাচ্ছে, এটাও কম কথা নয়।
Latest
-
Yin Cao, ScD, of Washington University School of Medicine in St. Louis, is predominant an international crew searching for to apprehend what...
-
সরকারি হাসপাতালগুলোর তালিকা (List of Govt. Hospitals) ঢাকার হাসপাতালগুলোঃ (hospitals in dhaka) সরকারি হাসপাতালগুলোর তালিকা (List of Govt. Ho...
-
গ্রীন লাইফ হাসপাতালের ডাক্তার লিস্ট তালিকা Green Life Hospital all Doctor List Location Phone Numberগ্রিন লাইফ হসপিটালের যোগাযোগ নম্বর ও ডাক্তারের তালিকায় আপনাদের স্বাগতম। গ্রিন লাইফ হসপিটাল মাত্র কয়েক বৎসরে ভাল মানের চিকিৎসা সেবায় অনেক সু...
-
BPL , PSL, IPL FREE CODE LINK Code Link: Live.HDTv
-
ছেলেদের লিঙ্গ বড় করার কার্যকর ও পরীক্ষিত পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন পুরুষের মত যে আকাঙ্খা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় সেটি হলো লিঙ্গের আকার আরও বড় ...
-
স্টিফেন হকিংয়ের উক্তি || Hawking Bani || Famous Quotes by Stephen Hawking
-
গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। অব...
-
Fans are worried about Leah Messer’s health after a few bikini photos surfaced online. The Teen Mom 2 star posted the images on Instagr...
-
A dengue outbreak that has sickened at least 549 Puerto Ricans so a lengthy way this year—most in the capital city, San Juan—has precipitate...
Featured Post
আলট্রাসনগ্রাম ছাড়াই যেভাবে জানবেন গর্ভের শিশু ছেলে নাকি মেয়ে! জেনে নিন বিস্তারিত-
গর্ভবতী নারীদের সঙ্গে তার বন্ধুরা বা আত্মীয়রা কথা বলার সময় অবশ্যই জিজ্ঞেস করেন, শিশুটি ছেলে না কি মেয়ে হবে? এটি প্রায় সকলের জন্য একটি মজ...










